নোবেল পুরস্কার ২০২৪ তালিকা

নোবেল পুরস্কার ২০২৪ সালে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখার জন্য নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গ ও সংস্থাকে প্রদান করা হয়েছে । প্রত্যেক নোবেল পুরস্কার বিজয়ী একটি স্বর্ণপদক, একটি সনদপত্র এবং ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (প্রায় ১২ কোটি ৮০ লাখ টাকা) নগদ অর্থ পুরস্কার হিসেবে পান। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানটি প্রতি বছর ১০ ডিসেম্বর, আলফ্রেড নোবেলের মৃত্যুবার্ষিকীতে অনুষ্ঠিত হয়।

  • ২০২৪ সালে নোবেল পুরস্কার পান মোট ১১ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি (১০ জন পুরুষ + ১ জন নারী) এবং ১টি সংগঠন।
  • এ পর্যন্ত ৬৫ জন নারী (৬৬ বার) নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
  • এ পর্যন্ত ১৮ জন নারী সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন (সর্বশেষ হান ক্যাং)।
  • এ পর্যন্ত ১৯ জন নারী শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন (সর্বশেষ নার্গিস মোহাম্মদি)।
  • এ পর্যন্ত ৪ জন আফ্রিকান নারী (৩ জন শান্তিতে ও ১ জন সাহিত্যে) নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
  • এ বছর প্রতিটি নোবেল পুরস্কারের অর্থমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা।
 নোবেল পুরস্কার ২০২৪ তালিকা

চিকিৎসা বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

চিকিৎসা বিজ্ঞানে এবারের নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন নাগরিক । যথাঃ

  1. ভিক্টর অ্যামব্রোস
  2. গ্যারি রাভকুন

অবদানঃ মার্কিন বিজ্ঞানী ভিক্টর অ্যামব্রোস এবং গ্যারি রুভকুন মাইক্রোআরএনএ (microRNA) আবিষ্কার এবং পোস্ট-ট্রান্সক্রিপশনাল জিন নিয়ন্ত্রণের জন্য ভূমিকা নিয়ে গবেষণার জন্য যৌথভাবে এই পুরস্কার লাভ করেন। তাদের এই আবিষ্কার জীববিজ্ঞানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে।

পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

পদার্থবিদ্যায় এবারের নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে লাভ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জন জে. হপফিল্ড এবং যুক্তরাজ্যের টরেন্টো ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক জিওফ্রে ই. হিন্টন

অবদানঃ মার্কিন পদার্থবিদ জন জে. হপফিল্ড এবং ব্রিটিশ-কানাডীয় বিজ্ঞানী জিওফ্রে ই. হিন্টন কৃত্রিম নিউরাল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং প্রযুক্তিকে উন্নত করার মৌলিক আবিষ্কার এবং উদ্ভাবনের জন্য এ বছর পদার্থবিজ্ঞানে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান।তাদের এই কাজ মেশিন লার্নিংয়ের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে।

রসায়ন বিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

রসায়ন বিজ্ঞানে এবারের নোবেল পুরস্কার যৌথভাবে লাভ করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২ জন এবং যুক্তরাজ্যের ১ জন নাগরিক । যথাঃ

  1. ডেভিড বেকার (যুক্তরাষ্ট্র)
  2. ডেমিস হ্যাসাবিস (যুক্তরাজ্য)
  3. জন এম. জাম্পার (যুক্তরাষ্ট্র)

অবদানঃ মার্কিন বিজ্ঞানী ডেভিড বেকার ও জন এম. জাম্পার এবং ব্রিটিশ বিজ্ঞানী ডেমিস হ্যাসাবিস কম্পিউটেশনাল প্রোটিন ডিজাইন এবং প্রোটিন স্ট্রাকচার পূর্বাভাসে তাদের অসাধারণ সাফল্যের জন্য রসায়নে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। পুরস্কারের অর্ধেক অর্থমূল্য পাবেন ডেভিড বেকার এবং বাকি অর্ধেক ডেমিস হ্যাসাবিস ও জন এম. জাম্পার। তাদের এই গবেষণা ওষুধ আবিষ্কার এবং জৈবপ্রযুক্তিতে বিপ্লব ঘটিয়েছে।

সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

সাহিত্যে এবারের নোবেল পুরস্কার এককভাবে লাভ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার নাগরিক হান ক্যাং । তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়াংজু শহরে জন্মগ্রহণ করেন ।

অবদানঃ দক্ষিণ কোরিয়ার লেখক হান ক্যাং তার সাহিত্যকর্মে তীব্র কাব্যিক গদ্যের জন্য, যা ঐতিহাসিক ট্রমাগুলোর মুখোমুখি হয় এবং মানব জীবনের ভঙ্গুরতাকে উন্মোচন করে। হান ক্যাং এর বিখ্যাত উপন্যাস 'The Vegetarian'। এশিয়ার প্রথম নারী লেখক হিসেবে তিনি সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান।

শান্তিতে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

শান্তিতে এবারের নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন জাপানি সংস্থা 'নিহন হিদানকায়ো' (Nihon Hidankyo) যেটি জাপানের পরমাণু অস্ত্রবিরোধী সংগঠন ।

অবদানঃ জাপানি সংস্থা নিহন হিদানকিয়ো (Nihon Hidankyo), যা হিরোশিমা ও নাগাসাকিতে পারমাণবিক বোমা হামলায় বেঁচে থাকা ব্যক্তিদের সংগঠন, পরমাণু অস্ত্রমুক্ত একটি বিশ্ব গড়ার প্রচেষ্টা এবং পরমাণু অস্ত্র আর কখনো ব্যবহার করা যে উচিত নয়, সেটি প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যের মাধ্যমে তুলে ধরার জন্য শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করে। তাদের সদস্যদের সাক্ষ্য ও প্রচারের মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের মানবিক বিপর্যয়ের দিকে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে এবং পারমাণবিক অস্ত্রের বিরুদ্ধে "নিউক্লিয়ার ট্যাবু" ধারণাটি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা রেখেছে। ​

অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার - ২০২৪

ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু, সাইমন জনসন এবং জেমস এ. রবিনসন এই তিন অর্থনীতিবিদ যৌথভাবে এবারের অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন । এদের মধ্যে ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের নাগরিক । আবার সাইমন জনসনও যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উভয় দেশের নাগরিক । শুধুমাত্র জেমস এ. রবিনসন যুক্তরাজ্যের নাগরিক ।

অবদানঃ তিন অর্থনীতিবিদ ড্যারন অ্যাসেমোগ্লু, সাইমন জনসন এবং জেমস এ. রবিনসন সমাজের প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গঠন করা হয় এবং সমৃদ্ধির ওপর তা কী প্রভাব ফেলে তা নিয়ে গবেষণার জন্য অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার অর্জন করেন। তাদের এই গবেষণা অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

নবীনতর পূর্বতন